[caption id="attachment_346" align="alignnone" width="300"]
গাজীপুর ৩ আসন,
পাল্টে যাচ্ছে ভোট হিসাবের সমীকরণ
সওকত, গাজীপুর
ঘনিয়ে আসছে নির্বাচন। জয় লাভের প্রত্যাশায় প্রার্থী ও কর্মীরা কষছেন নানান হিসাব। হিসাব মিলাচ্ছেন ভোটের নানান সমীকরণে।
গাজীপুরে মোট ৫ পাঁচটি আসনের মধ্যে গাজীপুর ৩ সংসদীয় আসনেও পাল্টে যাচ্ছে ভোটের এই সমীকরণ। প্রার্থীরা স্ব স্ব অবস্থান থেকে আরও জোড়ালোভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। দলীয় টান ছাড়াও আঞ্চলিকতার টানে ভোটাররা সংগঠিত হচ্ছে। মনে প্রাণে বেছে নিয়েছেন তাদের প্রার্থীকে।
এই সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ২৭ হাজার ৩৬০ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬০ হাজার ১৬১ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৯ জন। ১২ ফেব্রুয়ারি ১৮০ টি কেন্দ্রে এই আসনে ভোট গ্রহণ হবে।
এই আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ডাঃ এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর নিজ বাড়ি শ্রীপুর উপজেলায়। দল-মত নির্বিশেষে শ্রীপুর উপজেলার অধিকাংশ ভোটার এই প্রার্থীকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। দলীয় কোন্দল মিটিয়ে শ্রীপুর উপজেলার বিএনপি নেতা কর্মীগণ বেছে নিয়েছেন ধানের শীষ প্রতীককে। এতে সুগম হতে পারে এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর বিজয়ের পথ। সংখ্যার দিক দিয়ে শ্রীপুর উপজেলায় ভোটের সংখ্যা যথেষ্ট বেশি।
অপরদিকে গাজীপুর সদর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নে নিজবাড়ি হওয়ার সুবাদে এই এলাকার অধিকাংশ ভোট পাচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ইজাদুর রহমান মিলন। যার প্রতীক ঘোড়া। একসময়ে বিএনপি ঘরানার লোক হয়ে তিনি সদর উপজেলায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হন।
ইজাদুর রহমানের আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশী অনেকেই বিএনপি'র উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পর্যায়ের পদবীর নেতা। যারা দিনে গলায় ব্যাজ ধারণ করে ধানের শীষের পক্ষে প্রার্থনা করলেও শেষ পর্যন্ত রক্তের টানে ও আঞ্চলিকতার প্রশ্নে প্রার্থী ইজাদুর রহমানকে ঘোড়া মার্কায় ভোট দেবেন। এমনটাই বললেন সদর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ডগরী খাসপাড়া, বড়চালা ও বিকেবাড়ি এলাকার ভোটারগন। আঞ্চলিকতার প্রশ্নে ওই দুই প্রার্থীর ভোটের সমীকরণ এমনটাই হতে পারে। ভোটারগণ বলছেন যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী দুইজনেই বিএনপি থেকে আসা। এদিকে , বিএনপির দলীয় ভোট দুই ভাগে বিভক্ত হলে সুযোগ নিতে পারে ১১ দলীয় জোট প্রার্থী মাওলানা এহসানুল হক, যার প্রতীক রিক্সা। সেই হিসেবে বিজয়ের মালা পড়তে পারেন ইসলামী এই নেতা মাওলানা এহসানুল হক। এই তিন প্রার্থী ছাড়াও ইসলামী ঐক্য জোটের মিনার প্রতীকের শামীম আহমেদ জাতীয় পার্টির নাজিম উদ্দিন এর পক্ষে লাঙ্গল প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করতে দেখা যাচ্ছে কদাচিৎ । বাকী তিন প্রার্থীকে নির্বাচনে প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে না বললেই চলে। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডাঃ এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক। স্থানীয় সামাজিক কর্মকান্ডে তার রয়েছে যথেষ্ট অংশগ্রহণ। তৃণমূল লোকদের সাথে যোগাযোগ থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যক্ষ ইজাদুর রহমান মিলনের জনপ্রিয়তা রয়েছে বেশ।১১ দলীয় জোট প্রার্থী মাওলানা এহসানুল হক ইসলামী শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষায় উচ্চ শিক্ষিত , যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রীধারী। তিনি ইসলামী ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক থাকাকালে আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় থেকে ভূমিকা রাখেন। তবে ভোটের হিসাব সমীকরণ যাহাই হোক আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটারদের ভোটদানের মাধ্যমে চূড়ান্ত হবে ভোটের রায়।[/caption]