

ইটভাটার মালিকরা চরম সংকটে: ইসলামপুরে টিকে থাকার লড়াই, সরকারের সহায়তা কামনা।
মাহবুবুল আলম বিজয় সংগ্রাম ৭১ টিভি ।
ব্যুরো প্রধান ময়মনসিংহ বিভাগ ।
জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার সকল ইটভাটার মালিক বর্তমানে চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে লোকসানের বোঝা বইতে বইতে আজ এই শিল্প ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। তারা বলছেন, ইটভাটা শিল্প টিকিয়ে রাখতে অবিলম্বে সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রয়োজন, অন্যথায় এ শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
সরেজমিনে বিভিন্ন ইটভাটা পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেও অনেক মালিক কাঙ্ক্ষিত লাভ তো দূরের কথা, ন্যূনতম খরচ তুলতেও ব্যর্থ হচ্ছেন। একদিকে ইটের বাজারমূল্য আশঙ্কাজনকভাবে কম, অন্যদিকে জ্বালানি, কাঁচামাল, শ্রমিক মজুরি ও আনুষঙ্গিক সব ধরনের ব্যয় বেড়েই চলেছে। পাশাপাশি সরকারি নীতিমালা, নিয়ন্ত্রণ ও নানা প্রশাসনিক চাপ এই শিল্পকে আরও কোণঠাসা করে ফেলেছে বলে দাবি তাদের।
ইটভাটার মালিকদের ভাষ্য, লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেও তারা আজ লোকসানের মুখ দেখছেন। অনেক ভাটা মালিক ঋণের বোঝায় জর্জরিত, কেউ কেউ ইতোমধ্যে ভাটা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। যারা এখনও কোনোভাবে টিকে আছেন, তারাও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে গভীর উদ্বেগে দিন পার করছেন। এই বাস্তবতা দেখে সংশ্লিষ্ট মহলসহ সচেতন নাগরিকরা অত্যন্ত মর্মাহত।
ইটভাটা মালিকরা জানান, নির্মাণ শিল্পের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এই খাতটি ধ্বংস হয়ে গেলে শুধু মালিকরাই নয়, হাজার হাজার শ্রমিক ও তাদের পরিবার মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। ফলে এটি একটি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানগত সমস্যা নয়; বরং একটি বৃহৎ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকট।
এমন পরিস্থিতিতে ইসলামপুর উপজেলার সকল ইটভাটার মালিক সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। তারা চান—যৌক্তিক নীতিমালা, কর ও জরিমানায় শিথিলতা, জ্বালানি ও কাঁচামালে সহায়তা এবং বাস্তবসম্মত বাজার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখার উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।
ইটভাটার মালিকদের শেষ কথা—সদয় বিবেচনা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সরকার যদি এই শিল্পের পাশে দাঁড়ায়, তবে আবারও লাভের মুখ দেখতে পারে ইটভাটা শিল্প। অন্যথায় অচিরেই এই খাত সম্পূর্ণভাবে মুখ থুবড়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
—